Flickr

Saturday, 28 February 2015

Religious extremists kills another freethinker

Religious extremists kills another freethinker




Avijit Roy , an atheist writer and blogger of Bangladeshi origin, residing in USA was brutally hacked to death yesterday night in Dhaka.
This is an old post written by him in the website founded by him Mukto Mona
The answer of religion to criticism has always been violence.
IMG_0495.JPGI
———————–
Today is September 30th, also known as Blasphemy Rights day. This day is dedicated to those who are systematically being persecuted, harassed, or killed for their simple expression of Freethought (more precisely, for their ‘blasphemous’ views towards religion).
In medieval ages “blasphemy” was equated with sin, as it was considered an insult to a deity or Holy Scripture. But as time progressed, we apparently became more civilized by promoting the idea that any belief should be open to examination and taboo-free. In most progressive parts of today’s world, particularly in Europe and North America, the old blasphemy laws have been overturned. However, few other parts of the world have retained social ideas that are reminiscent of the mediaeval age. Pakistan, Saudi Arabia, Iran and Bangladesh are some prime examples. In Bangladesh, as we already know, several bloggers were recently put behind bars on the sole basis that they were openly atheist (Pls. refer to my write up published in current issue of Free Inquiry Magazine on this topic). In Pakistan (as from the U.S. Commission on International Religious Freedom report), at least 203 incidents of violence in the name of religion have resulted in some 1,800 casualties and more than 700 deaths in just the last 18 months. These Islamic countries, based on their religious legal code known as Sharia, are deeply anti-woman as well. Recently, a 19-year-old gang rape victim (yes, you read right – rape victim, not the rapist) was sentenced to 200 lashes and to six months in jail for the crime of indecency and speaking to the press in Saudi Arabia (read here). In another incident, Raif Badawi, a blogger in Saudi Arabia has been sentenced to seven years in prison and 600 lashes on charges of blasphemy (here). The nonbelievers in these Islamic countries face the most severe treatment at the hands of both mullahs and the state.
Today, we state clearly that considering apostasy to be a criminal offense in state level in fact is an inexcusable offense. If being religious is someone’s right, then being critical to religion is also one’s right. There is nothing wrong to be critical to any idea or ideology, as CFI aptly put on its Blasphemy day banner – ‘Ideas do not need rights, People do’!
I wished I would write more on this year’s celebration of blasphemy day, but one unexpected email changed the entire theme of my planned write-up. The email arrived from Patuakhali, one of the remote districts in South-western Bangladesh:
“Every human being wants to be happy; but if we don’t know how to find a way to walk the road of happiness then we will just grow up naturally and die someday without getting the taste of real happiness.
Few years ago, I was desperately looking for a way to find the path of happiness. I guess I have found it at last. Now I know the real happiness is reading “Mukto-Mona [Freethinker] blog” every day. The real feeling is to know the truth and all I have got from you. I’m really thankful to you for showing the right path. I wish your happiness and bright future always”.
However, it was the last paragraph of the email that really touched my heart. It says:
I have a daughter. As a mark of respect to you and your creation – Mukto-Mona blog, I call her ‘Muktomona’ [freethinker is Bengali] as well. She is two years old now. I will try my best to make her real muktomona I look forward to my daughter growing up and one day asking me, among the millions of names, why did I pick and choose her name ‘muktomona’. That day I would tell her about you and show her your site and explain -‘That’s why’!
This was a wonderful gift for me on ‘Blasphemy day’. I founded this ‘blasphemous site’ Mukto-Mona (www.mukto-mona.com) in the year of 2001, with a singular intention: to debate and discuss on controversial, but utterly important issues. Only with this principle, I thought, can the construction of a progressive, rational and secular society be possible in mainstream Bangladesh and South Asia. I was proud of MM’s growing popularity in the progressive community over the years, but I never imagined that a person from remote Pauakhali would one day inspired one day so much that he would name his little girl ‘Mukto-Mona’.
What a pleasant surprise! I hope just as her name suggests, the little girl will one day grow up to be a ‘blasphemous’ freethinker. I hope she maintains an inquisitive mind throughout her life, and will be a wonderful person and that she will enhance her life with an ethical, scientific, and philosophical outlook. I wish her all the best.
Happy blasphemy day 2013. We will celebrate the day as ‘Mukto-Mona Day’ from now on.
Avijit Roy
Founding Moderator, Mukto-Mona
Blasphemy Day, 2013
(September 30, 2013)

____________
Dr. Avijit Roy is a Bangladeshi-American blogger, published author, and prominent defender of the free thought movement. He is an engineer by profession, but well-known for his writings in his self-founded site, Mukto-Mona—an Internet congregation of freethinkers, rationalists, skeptics, atheists, and humanists of mainly Bengali and South Asian descent. As an advocate of atheism, science, and metaphysical naturalism, he has published seven Bangla books, and many of his articles have been published in magazines and journals. His latest book, Obisshahser Dorshon (The Philosophy of Disbelief), has been critically well-received and is a popular Bengali book on science, skepticism, and rationalism. He writes from Atlanta, Georgia. He can be reached through twitter (@avijit_roy_MM) and Facebook.

Thursday, 19 February 2015

রাজনীতির সৌজন্য শিষ্টাচার

রাজনীতির সৌজন্য শিষ্টাচার এবং একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ
হিন্দু ঘোষদের বানানো খাঁটি গাওয়া ঘি নিশ্চয়ই পাঠকরাও অনেক খেয়েছেন। ওই ঘি-এর কথাটা সম্প্রতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি তাই বলে সরাসরি বলেননি, বলেছেন একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। সুদূর ব্যাংককে বসে বিএনপির নেতাদের ‘নেড়ি কুত্তার মতো’ পেটানোর হুমকি দিয়েছেন এই ‘সোনার ছেলে’। খবরটি পড়েই খাঁটি গাওয়া ঘি-এর কথা মনে পড়ে গেলো। কারণ, প্রবাদ রয়েছে বলে শুধু নয়, আসলেও কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না। কোনো কুকুরকে খাওয়ানো হলে কিংবা ভুল করে কুকুরটি নিজেই খেয়ে ফেললে তার শরীরের সব লোম ঝরে যায়। এ রকম মাদী বা মেয়ে কুকুরকেই নেড়ি কুকুর বলা হয়। বিশেষ গোষ্ঠী ও শ্রেণীর লোকজন অবশ্য কুকুরের চাইতে ‘কুত্তা’ শব্দটিকে বেশি পছন্দ করেন। গালাগাল করার ও হুমকি দেয়ার জন্য বেছেও নেন।
কথা উঠেছে একটি বিশেষ কারণে। ক’দিন আগের এক নিবন্ধে রাজনীতির ভাষা সম্পর্কে লিখেছি। উদাহরণ দেয়ার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য উল্লেখ করতে হয়েছিল, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলোধুনো করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেছেন, আপনার ‘কুপুত্র’কে জিভ সামাল দিয়ে কথা বলতে বলবেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালের স্লোগান ‘ওরা মানুষ হত্যা করছে, আসুন আমরা পশু হত্যা করি’- স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইয়াহিয়া খান ছিল একটা জানোয়ার। তারেক রহমানের কথায়ও ইয়াহিয়ার সুর শুনতে পাচ্ছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জানোয়ারকে কিভাবে শিক্ষা দিতে হয় তা দেশের মানুষ জানে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের টাকায় পুত্রদের মানুষ না বানিয়ে ‘বড় চোর’ বানিয়েছেন এবং লেখাপড়া শিখলে ‘সে’ (তারেক রহমান) মানুষের মতো কথা বলতো। পশু হত্যার আহ্বান, বিনাশকালীন পাকিস্তানের ঘাতক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে ‘জানোয়ার’ বলা এবং তার সঙ্গে তারেক রহমানকে তুলনা করার মতো প্রতিটি বিষয়ই যথেষ্ট অর্থপূর্ণ বলে মনে করা যেতে পারে। এগুলোর উদ্দেশও অতি ভয়ংকর। তাছাড়া দেশের মানুষের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিন্তু একথাও জানিয়ে রেখেছেন, জানোয়ারকে কিভাবে শিক্ষা দিতে হয় তা দেশের মানুষ জানে। ধরে নেয়া যায়, শিক্ষাটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিতে চান! 
এ পর্যন্ত এসে থেমে গেলেও হয়তো রুচি, শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বাড়াতে হতো না। অন্যদিকে গুনে গুনে ঠিক নয়দিন পর, গত ২৭ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় মরহুম পিতার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে কটূক্তি করে তারা ‘কুলাঙ্গার’। তাদের রেহাই দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটির অর্থ জানার জন্য বাংলা একাডেমির ডিকশনারি খুলতে হলো। এতে বলা হয়েছে, এমন কাউকেই ‘কুলাঙ্গার’ বলা হয়, যে তার পরিবারের সম্মান নষ্ট করে। আমরা জানি না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘কুপুত্র’ এবং ‘বড় চোর’ তারেক রহমান নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য নয়। কারণ, ‘সে’ অর্থাৎ তারেক রহমান তো লেখাপড়াই শেখেননি! আর শেখেননি বলেই তিনি ‘মানুষের মতো’ কথা বলতে জানেন না! একই কারণে তার মতো কাউকে অন্তত উচ্চ শিক্ষিত ও উন্নত রুচিসম্পন্ন কোনো পরিবারের সদস্যের মর্যাদা দেয়ারও প্রশ্ন উঠতে পারে না। শুনে ‘বেচারা’ তারেক রহমান আফসোসে একেবারে কাহিল হয়ে পড়বেন কি না সে প্রশ্নে না গিয়ে এখানে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অন্য একটি তথ্য জানানো দরকার। তথ্যটি হলো, এবারও মন্ত্রীরা পাল্লা দিয়েই ময়দানে হাজির হয়েছেন। তারাও বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে ‘উন্নত’ রুচিরই পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপি নেত্রীর নাম উচ্চারণ করতেও রাজি নন জানিয়ে একজন মন্ত্রী তো তাকে ‘মহিলা’ই বলে বসেছেন। ‘মহিলা’র আগে ‘ভদ্র’ শব্দটি যোগ করার মতো উদারতাও দেখাননি এই ‘উচ্চ শিক্ষিত’ মন্ত্রী মহোদয়। তার মুখ থেকেই বেরিয়েছে ভয়ংকর ‘ডাইনি’ শব্দটি। ‘ডাইনি’ বলেছেন তিনি খালেদা জিয়াকে। অন্য সকলেও কমবেশি একই রুচি ও মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন- যাদের মধ্যে একজন ‘ড.’যুক্ত মন্ত্রীও রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতাদের ‘নেড়ি কুত্তার মতো’ পেটানোর হুমকি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এজন্য তাকে আদৌ দোষ দেয়া যায় কি না পাঠকরা তা ভেবে দেখতে পারেন। কারণ, আওয়ামী লীগের সকলেই তো এ ধরনের- এমনকি তার চাইতেও খারাপ শব্দ ও ভাষায় বলে চলেছেন! সে শিক্ষাটুকুই আবার ছাত্রলীগের এই সোনার ছেলেটা পেয়েছে।
আজকের নিবন্ধ কিন্তু এসব নোংরা বিষয়ে বলার বা জবাব দেয়ার উদ্দেশে পরিকল্পিত হয়নি। নিবন্ধের উদ্দেশ আসলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতি সহানভূতি জানানো। কারণ, অন্য অনেক বিখ্যাতজনের মতো তিনিও মরে গিয়ে বেঁচে যেতে পারেননি। লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিএনপি যেহেতু এখনো, এত দমন-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের পরও দেশের প্রধান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের অবস্থানে রয়ে গেছে সেহেতু দলটির পাশাপাশি জিয়াউর রহমানকে ধরেও টানাটানি চলছে বিরামহীনভাবে। এই যে এত কথা ও আক্রমণ- সবকিছুর পেছনে মূল কারণ কিন্তু জিয়াউর রহমানই। কেন- সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে ছোট্ট কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ দুটি ঘটনা শুনুন। এক বিখ্যাতজনার কীর্তিমান ‘সুপুত্র’ গভীর রাতে গুলশান এলাকায় অ্যাক্সিডেন্ট ঘটিয়েছিলেন- শোনা যায়, মদ্যপ অবস্থায়। পুলিশ তাকে থানায় নিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির আসর জমানোর মতো উৎসাহী লোকজনের অভাব ছিল না। অন্যজন তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। খবর পাওয়া মাত্র তিনি ওই ‘সুপুত্র’কে সসম্মানে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। বিষয়টিকে পত্রিকার খবরও হতে দেননি তিনি। কারণ, এর সঙ্গে প্রথমজনার তথা প্রধান একজন রাজনৈতিক নেত্রীর এবং তার পরিবারের সম্মান জড়িত ছিল। এর পরের ঘটনা ওই প্রধানমন্ত্রীর কথিত ‘কুপুত্র’কে নিয়ে। সেখানে অবশ্য থানা-পুলিশের ব্যাপার ছিল না। কথিত ‘কুপুত্র’ নিজের বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে প্রথমজনার বাসভবনে গিয়েছিলেন। গিয়েছিলেন ‘মায়ের মতো’ নেত্রী যাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বর ও কনেকে দোয়া করেন- সে অনুরোধ জানানোর জন্য। কিন্তু আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে যাওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর ‘কুপুত্র’কে এক ঘণ্টারও বেশি সময় নিচের তলায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রথমজন অনুগ্রহ করে মিনিট তিন-চারেকের জন্য সাক্ষাৎ দিয়েছিলেন সত্য কিন্তু তার ব্যবহারে আন্তরিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানেও যাননি তিনি। পরবর্তীকালে ছেলের বয়সী ওই ‘কুপুত্র’কেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে ছেড়েছেন প্রথমজনা!
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগে আছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গণতন্ত্রসম্মত বিরোধিতা যদি উদ্দেশ্য হতো তাহলে এই লেগে থাকাকে স্বাগত জানানো মানুষের কর্তব্য হতো। কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে, উদ্দেশের মধ্যে গণতন্ত্রের কোনো উপাদান নেই, আগেও কখনো ছিল না। তিনি নেমে আছেন ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে। নেমেছেনও একেবারে ‘আদাজল’ খেয়ে। তার অতি সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন বক্তব্য আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম যে মহাকম্ম তিনি করেছিলেন তার উল্লেখও না করলেই নয়। এখানে মহাকম্ম বলতে বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উৎখাত করার পদক্ষেপের কথা বোঝানো হচ্ছে। বহুল আলোচিত বলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখের প্রয়োজন পড়ে না। মূলকথা হলো, সেনানিবাসে শহীদ মইনুল রোডের বাসভবনটি চেয়ে-চিন্তে কিংবা বেআইনীভাবে নেননি খালেদা জিয়া- যেমনটি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজের নামে ‘গণভবন’ লিখিয়ে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
বাস্তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেদনায় আপ্লুত হয়ে পড়া জাতি ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাসভবনটি খালেদা জিয়াকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। ওই বাসভবনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িত ছিল- যিনি রেডিওতে হলেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান থাকার সময় বাসভবনটিতে উঠেছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর  রহমান। পরবর্তীকালে তিনি সেনা প্রধান হয়েছেন কিন্তু ‘সেনাভবনে’ গিয়ে ওঠেননি। প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কিন্তু ‘বঙ্গভবনে’ গিয়ে বসবাস করেননি। এজন্যই খালেদা জিয়াকে ওই ভবনটি দেয়া হয়েছিল। এটা এক ধরনের ক্ষতিপূরণ ছিল, অভ্যুত্থানে নিহত প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে এটা খালেদা জিয়ার প্রাপ্যও ছিল। চুক্তির সকল শর্ত মেনেই তিনি সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও প্রমাণ করা যায়নি যে, কোনো একটি প্রশ্নে খালেদা জিয়া চুক্তি লংঘন করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে ওই বাসভবন থেকে উৎখাত করার তৎপরতা চালানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে তাকে উৎখাতও করে ছেড়েছেন সরকার। পরিষ্কার হয়েছে, সবকিছুর পেছনে প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্য ও মানসিকতাই কাজ করেছে। অন্তরালের আসল কারণটিও এখানে উল্লেখ করা দরকার। তাকে যেহেতু ‘গণভবনে’র মালিক বনতে দেয়া হয়নি সেহেতু খালেদা জিয়াকেও তিনি শহীদ মইনুল রোডের বাসভবনটিতে থাকতে দেবেন না। দুটির মধ্যে যত আকাশ-পাতাল ফারাকই থাকুক না কেন, খালেদা জিয়াকে ওই বাসভবন থেকে উৎখাত না করে ছাড়েননি! এখানেই আসলে দু’জনের মন ও মানসিকতার পার্থক্য। বেগম খালেদা জিয়া যেখানে যথাযথ সম্মান দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনার সঙ্গে গণতন্ত্রসম্মতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতো ব্যবহার করেছেন। এখানে অন্য একটি তথ্যেরও উল্লেখ করা দরকার। সেটা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান বিষয়ক। খালেদা জিয়াই প্রথম নন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও শেখ হাসিনার প্রতি উদার মনোভাবই দেখিয়েছিলেন। মূলত প্রেসিডেন্ট জিয়ার সদিচ্ছা ও উদারতার কারণেই শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরেছিলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রী হতে পেরেছিলেন। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত এবং ‘বঙ্গবন্ধু ভবন’ হিসেবে পরিচিত পৈত্রিক বাসভবনটিও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
এটা ১৯৮১ সালের ঘটনা। তখনও চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের ক্ষত সেরে ওঠেনি, জনগণের মধ্যে বাকশালী শাসনবিরোধী ক্ষোভও ছিল প্রচণ্ড। তা সত্ত্বেও দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্দেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একই আওয়ামী লীগ নাম নিয়ে সে সময় ব্র্যাকেটবন্দী খান তিনেক দলের আবির্ভাব ঘটেছিল। আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বাধীন উপদলটি মূল আওয়ামী লীগের অবস্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু সেখানে সভাপতির পদ নিয়ে সংঘাত মারাত্মক হয়ে ওঠে। আপস ফর্মুলা হিসেবে শেখ হাসিনাকে সভানেত্রী বানানো হয়। শেখ হাসিনা তখন ভারতের আশ্রিতা হিসেবে নয়াদিল্লীতে বসবাস করছিলেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্ন ওঠে। একটি মহল বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা অবাধে দেশে ফিরে আসতে এবং বসবাস করতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণার পরই নয়াদিল্লী থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল (১৭ মে, ১৯৮১)। সবকিছুর পেছনে ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সদিচ্ছা ও উদারতা। তিনি শুধু শেখ হাসিনাকেই ফিরিয়ে আনেননি, নিজে উদ্যোগী হয়ে তাকে তার পৈত্রিক বাসভবনটিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার নির্দেশে বাসভবনের প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সে তালিকায় শেখ মুজিবের ‘ঐতিহাসিক’ পাইপ ও চশমা, শেখ কামাল ও শেখ জামালের সোনার মুকুট, অলংকার, নগদ টাকা, মার্কিন ডলার, ভারতীয় রুপি, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং কাপড়-চোপড় ও আসবাবপত্র যেমন ছিল, তেমনি ছিল লাইসেন্সবিহীন কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র, সেগুলোর গুলী। কয়েকটি গ্রেনেডও ছিল। শেখ হাসিনা প্রতিটি জিনিস তালিকার সঙ্গে একটি একটি করে মিলিয়ে ও যাচাই করে তারপর লিখিতভাবে বুঝে নিয়েছিলেন। স্বর্ণকার দিয়ে সোনার মুকুট ও প্রতিটি স্বর্ণালংকার পরীক্ষা ও ওজন করিয়ে এবং রীতিমতো ‘বাজিয়ে বাজিয়ে’ নিয়েছিলেন। তিনি শুধু আগ্নেয়াস্ত্রগুলো বুঝে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। এর ক’দিন পরই চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট  জিয়া (৩০ মে, ১৯৮১)। পাঠকরা ১৭ মে এবং ৩০ মে- এই তারিখ দুটির মধ্যকার ব্যবধান মিলিয়ে দেখতে পারেন। প্রথম তারিখে প্রেসিডেন্ট জিয়ার উদারতায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন, দ্বিতীয় তারিখে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে মৃত্যু ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সদিচ্ছা ও উদারতায় যিনি দেশে আসার ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, ফিরে পেয়েছিলেন ধানমন্ডির পৈত্রিক বাসভবন, তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্ত্রী ও সন্তানদের ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উৎখাত করেছেন। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও স্নেহভরা চমৎকার মনেরই পরিচয় দিয়ে গেছেন। ইতিহাস কেন স্মরণ করিয়ে দিতে হলো, পাঠকরা নিশ্চয়ই তার কারণ নিয়ে চিন্তা করে দেখবেন।

Thursday, 12 February 2015

সরকার না হয় রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনও কি অন্ধ?

সরকার না হয় রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনও কি অন্ধ?
দু’দিন আগে ঢাকার একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা দেশে বিদেশে ব্যাপক চ্যাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। তা হলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। অরাজনৈতিক এ ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যু ও পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা জনমনে সৃষ্টি করে বিপুল আগ্রহের। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশগ্রহণকারী বিশাল সংখ্যার অপরিমেয় জনমানুষ বাংলাদেশের ৪৫ বছরের ইতিহাসে এখনও একটি আলোচ্য বিষয়। এরপরে তদীয় পুত্র কোকোর জানাজা আরেকটি বৃহত্তম সমাবেশ। উল্লেখ করা যায়, উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধীর স্নেহের পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুতে কারও টনক নড়েনি।
বিস্ময়করভাবে ঢাকায় জানাজার অনুষ্ঠানে এত বড় সমাবেশ হয়ে গেলো, অথচ বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলি তা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেনি। অনেক ছোটখাট বিষয়কে লাইভ টেলিকাস্ট করার নজীর এখানে বিদ্যমান। জনমনে বিপুল আগ্রহ থাকলেও টিভি চ্যানেলগুলি তা সরাসরি দেখাতে পারেনি।এর কারণ হিসাবে সবাই মনে করেন, টিভি চ্যানেলগুলো সরকারের কঠোর সেন্সরশীপের মধ্যে রয়েছে। কেননা কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়ার আরেক পুত্র তারেক রহমানের বক্তব্য লাইভ টেলিকাস্ট করার কারণে একুশে টিভির কর্ণধার আবদুস সালামকে রাতের আধারে চোর ছ্যাচ্চোরের মত গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায় রাস্তা থেকে, এরপরে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে রেখেছে। এমনকি ঐ টিভি চ্যানেলটির প্রদর্শনীও সরকার সীমাবদ্ধ করে দেয় কয়েকদিন। অখিল পোদ্দারের নেতৃত্বে সরকার পন্থীরা ক্যু করে টিভি সংবাদ থেকে মালিকপন্থী ৫ জন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে একুশে টিভি সরকারের প্রতি চরম আনুগত্য প্রদর্শন করে চালু আছে। পরবর্তীতে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীরা অন্যান্য সব টিভির মালিকদেরকে ডেকে একুশে টিভির নজির দেখিয়ে তাদের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক চলার জন্য মোলায়েম সুরে ধমক দেয়। আর তাতেই কাজ হচ্ছে। সরকারের পছন্দমত খবর প্রচার করছে; অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মকা-, এমনকি জনগণের প্রত্যাশিত খবর ও মাঠে ময়দানের বাস্তব চিত্রও টিভিতে প্রদর্শন করা যাচ্ছে না। টক-শোতে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না আলোচকরা। সরকারের সমালোচনাকারী আলোচকদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ প্রাণ ভয়ে দেশ ছেড়েছেন।
আরাফাত রহমান কোকো, যার জন্মই হয়েছে একজন সেনা কর্মকর্তার সন্তান হিসেবে-সামরিক কবরস্থানে দাফন পাওয়া তার জন্মগত অধিকার। সে জন্মগত অধিকারকে এই প্রথমবারের মতো বাতিল করে তাকে কবরস্থানের মাটি থেকে বঞ্চিত করলেন দেশের বিপুল ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান দিলেন, কেবল জীবিত অবস্থায়ই নয়, তার বিরোধী পক্ষের লোকজনকে মৃত্যুর পরেও শায়েস্তা করতে তিনি পারঙ্গম! কোকো যদি একজন সেনাপ্রধানের পুত্র হওয়ার পরেও বিধি মোতাবেক কবরের মাটি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন, তবে ভবিষ্যতে এ নজির অনুকরণে বহু ঘটনা ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। দেশের যে সেনাপ্রধান, এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ডে রাজনৈতিক নির্দেশনাকে সায় দেন, তার বাহিনীর কাছে তিনি কি রকম নপুংশক হিসাবে পরিচিত হয়ে আছেন, সেটা সামাজিক মাধ্যমগুলিতে আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে, ম্যান্ডেটহীন প্রধানমন্ত্রী ও অত্যানুগ সেনাপ্রধানকে জাতি জবাব দিয়েছে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির জানাজায় লাখ লাখ হাজির হয়ে! এই সদ্যমৃত কোকোর নামে বিগত ৬ বছর ধরে আওয়ামীলীগ সরকার চালিয়েছে একতরফা প্রোপাগান্ডা, যদিও তার ছিল না কোন রাজনৈতিক প্রোফাইল। কেবল তার মা হলেন বর্তমান সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এই অযুহাতে চলেছে বিরামহীন চরিত্রহরণ। সরকারের এসব প্রচারণা কি কাজে দিয়েছে? দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, সরকারের এসব অপতৎপরতাকে জনগণ গ্রহণ করেনি।
প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে হুকুম দিয়েছেন, বিরোধী দল দমনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নিতে, এ জন্য সকল দায়িত্ব নিবেন তিনি নিজে (শেখ হাসিনা)। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের মধ্যে স্বৈরাচারের শেষ বেলার গন্ধ পাওয়া যায়। দুনিয়ার সব স্বৈরাচারই পতনের আগে অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিবাদী জনতাকে হত্যা করে গদি টিকাতে গিয়ে শেষে ব্যর্থ হয়। কার্যত, গত একবছর ধরে বাংলাদেশকে পরিণত করা হয়েছে পুলিশী রাষ্ট্রে- যেখানে জনতা রাস্তায় নামলেই পুলিশ রাইফেলের গুলিতে সব পন্ড করে দেয়, রাজধানীতে বিরোধী দলের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে, বিচার বিভাগ সরকারের পদানত, বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কয়েকশ নেতাকর্মী আটকের পরে ফিরে আসে লাশ হয়ে- বলা হয় বন্দুক যুদ্ধ, যৌথ অপারেশন করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে লোকজন বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে সরকারী বাহিনী। এরপরে বিরোধী দল দমনে আর কি কঠোর ব্যবস্থা বাকী রইল? এখন যা করতে পারে, ঘরে ঘরে ঢুকে বিরোধী দলের নেতাকর্মী হত্যা করা, আর এদের অফিস আদালত বাড়িঘর ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া। তেমন কিছু করার জন্য কি প্রস্তুত পুলিশ বা র‌্যাব?
আমাদের স্বল্পকালীন গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিহাসে ৫ জানুয়ারী ২০১৪ এক কালো দিন। সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে, জাতিসংঘসহ বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রের পরামর্শ উপেক্ষা করে, সকল বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও বাধার মুখে, বাংলাদেশে সংবিধান রক্ষার নামে আওয়ামীলীগ সরকার নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনকে কব্জা করে প্রহসনমূলক একদলীয় একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করে, যা ছিল ব্যাপক সংঘাতময়। সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট ১৫৩টি আসনে অসাংবিধানিকভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে বিনাভোটে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বাকী ১৪৭টি আসনে নগন্য ভোটাধিকারে (শতকরা ৫/১০ ভাগ) সম্পূর্ণ অবৈধ একটি সংসদ গঠিত হয়, যদিও ব্যাপক কারচুপি ও ফল জালিয়াতি করে ৪০ ভাগ ভোট কাষ্টিং দেখানো হয়। এসব ঘটনাবলী দেশের জনগণ ও প্রশাসনের সম্পূর্ণ অবহিত। নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ও পরে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে নানাবিধ কূটনৈতিক উদ্যোগ চলতে থাকে, যার সর্বশেষ পরিণতি হয়- খুব দ্রুততার সাথে আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আশ্বাসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সরকার গঠনের পর ক্ষমতাসীন দল ক্রমশ তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরতে থাকে। অন্যদিকে, প্রতিবাদী বিরোধী শক্তিকে কঠোর হাতে দমন করা হয়, রাজনৈতিক সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আগ বাড়িয়ে বিরোধী দলকে নির্মূল করার ঘোষণাও দেন। প্রতিশ্রুত নির্বাচনের আশায় ৩ মাস থেকে ৬ মাস, ৬ মাস থেকে এক বছর অপেক্ষার পর অবৈধ নির্বাচনের বছর পূর্তিতে ৫ জানিুয়ারি ২০১৫ বিরোধীদলীয় জোট রাজধানীতে সমাবেশ করতে চাইলে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে, বিরোধী দলসমূহের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অফিসের মধ্যে অন্তরীণ করে রাখে ২ সপ্তাহ, এমনকি তার বাড়ির চারপাশে ইট বালি সিমেন্টের ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দিয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে হাসির পাত্রে পরিণত করে। বাধ্য হয়ে বিরোধী দল টানা অবরোধের ডাক দেয়। সেই অবরোধের মধ্যেই অবরোধকারী এবং সরকার উভয় আক্রমণের শিকার হয় মূলত গণপরিবহন, আহত নিহত হয় নিরীহ জনতা।

Wednesday, 4 February 2015

সময়ের ডাকে সাড়া দিন

সময়ের ডাকে সাড়া দিন
অবরোধের সঙ্গে শুরু হয়েছে ৭২ ঘণ্টার হরতাল। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে ১৫ লাখ এস এস সি পরীক্ষার্থী। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার  কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী শাজাহান খানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার হুমকির কয়েক ঘণ্টা পরেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে দেশে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে না। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ নেতারা যেমন বোঝেন, তেমনি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদেরও না বোঝার কথা নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনাকাক্সিক্ষত এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ একজন সাধারণ নাগরিকও জানেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে না আসলে সবার জন্যই অপেক্ষা করছে ক্ষতি এবং ক্ষতি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট-সমাধানের লক্ষ্যে দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা কথা বলছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কে এম বদরুদ্দোজা বলেছেন, সকল রাজনীতিক দলের অংশ গ্রহণে কার্যকর সংলাপই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।
গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্ত করতে সন্তু লারমার সঙ্গে বসতে পারেন, তবে দেশের এই চরম সংকটে এখন সংলাপে বসতে পারবেন না কেন? খালেদা জিয়ার অফিসের বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘটনাকে তিনি জঘন্য ও নিকৃষ্ট বলে  মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা আমাদের রাজনৈতিক কলঙ্ক। এদিকে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে বর্তমানে সাংবিধানিক শাসন নেই। আমরা জনগণের ক্ষমতায়ন চাই। গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া বন্ধ করতে হবে, আর সরকারকে ইয়াহিয়া-আয়ুবীয় শাসন বন্ধ করতে হবে। এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরতন্ত্র।
দলকানা ব্যক্তিরা ছাড়া যে কোনো বিবেকবান নাগরিকই একথা বিশ্বাস করেন যে, উগ্রতা ও অহংকার দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সমাধানের জন্য সংকটের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করতে হয় এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগুতে হয়। এ বিষয়টি আমাদের সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীদের না বোঝার কথা নয়। আমরা দেখছি যে, ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে। এর আগে একই অবস্থার মধ্যে পড়েছে ‘ও লেভেল’ ও ‘এ লেভেলের’ পরীক্ষার্থীরা। সামনে আরো পরীক্ষা হবে। বিদেশী মেহমানরা আসবেন। দেশের কলকারখানা ও ব্যবসা বাণিজ্যও চলতে হবে। সমস্যা শুধু তো এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে নয়। আমরা এ কথা ভাল করেই জানি যে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধান না হলে আমাদের সংকটের মাত্রা বাড়তে থাকবে এবং অভাব-অনটনে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। বিশ্বে আমাদের ইমেজ নষ্ট হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক এই দুনিয়ায় আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে আন্দোলনরত বিরোধী দল ও শাসক সরকারের এখনই অর্থবহ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। দেশ-বিদেশের প্রাজ্ঞজনদের পরামর্শের ভিত্তিতে সরকার জাতীয় স্বার্থে উদারমনে কোনো পদক্ষেপ নিলে তাতে বরফ গলতে পারে। সরকার সময়ের ডাকে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে সমর্থ হলে, তা জাতির জন্য এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে বিরোধী দলের জন্যও তা পথ নির্দেশনায় সাহায্য করবে। জাতিকে সংকটমুক্ত করতে সরকার এবং বিরোধী দল কী ভূমিকা গ্রহণ করে সেটাই এখন সবার দেখার বিষয়।
Hey, we've just launched a new custom color Blogger template. You'll like it - https://t.co/quGl87I2PZ
Join Our Newsletter