Flickr

Showing posts with label Dirty Politics. Show all posts
Showing posts with label Dirty Politics. Show all posts

Saturday, 17 October 2015

প্রেস ক্লাবের সামনে ওলামা লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ১২

প্রেস ক্লাবের সামনে ওলামা লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ১২

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার এঘটনা ঘটে। এতে ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী গ্রুপের হামলায় সংগঠনের অপর অংশের সভাপতি আখতার হুসাইন গ্রুপের ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সকাল ১০ টার পর হেলালী গ্রুপ ও বুখারী গ্রুপের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ায়। সাড়ে ১০ টার দিকে ইয়াছিন বিন হেলালী এসে গাড়ি থেকে নামার পরই তার সমর্থকরা বুখারী গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওলামা লীগের ইলিয়াস ও আখতার হোসাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ পুরস্কার পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী যখন মানববন্ধনে আসেন তখনই টুপি পরিহিত অর্ধশতাধিক লোক লাঠি, চাপাতি নিয়ে পাশে থাকা আখতার গ্রুপের কর্মীদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় আহত ওলামা লীগের আখতার হুসাইন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরিয়তপুরী জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে হেলালী গ্রুপের সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের ১২ জন আহত হয়েছেন। আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের নাম এখনো পাইনি। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করব।
তিনি গণমাধ্যমকে আহত ১২ জনের নাম জানান। আহতরা হলেন- মাওলানা শওকত আলী শেখ সেলিমপুরী, হাজি হাবিবুল্লাহ রূপগঞ্জী, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী, মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি, মাওলানা লোকমান হোসেন, ক্বারী মাওলানা আসাদ, মাওলানা মো. সোলায়মান, মাওলানা নাজমুল হক, মাওলানা রবিকুল ইসলাম ও মাওলানা শাজাহান।

অন্যদিকে হামলার বিষয়ে ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী বলেন, ‘আমি ওলামা লীগের সভাপতি। যাদেরকে জনগণ তাড়িয়ে দিয়েছে ওরা জামায়াতের এজেন্ট। হেফাজতের চর। এ জন্যই ওলামা লীগের প্রকৃত কর্মীরা ওদের পিটিয়েছে।’
হেলালী গ্রুপের অভিযোগের বিষয়ে ওলামা লীগের অপর অংশের সভাপতি আখতার হোসাইন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরিয়তপুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিজে এবার হজে পাঠিয়েছেন। আমি ১/১১ এর সময় প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে প্রথম মিছিল করেছি। পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে
ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী চেনেন, জানেন। আমরাই ওলামা লীগের প্রকৃত অংশ। ওরা আওয়ামী লীগের কেউ না।’

এরশাদ, দ্য নিউজ মেকার


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দ্য নিউজ মেকার। নব্বইয়ের কাছাকাছি বয়সে এসেও প্রতিদিনই নিত্য নতুন চমক তৈরি করে চলছেন তিনি। কেন হঠাৎ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রীর এ বিশেষ দূত তা নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে চলছে নানা আলোচনা। নতুন ধরনের গণতন্ত্রে জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। পশ্চিমা অনেক গণতান্ত্রিক দেশ এ বিষয়টি ভাল চোখে দেখে না। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না অনেক রাজনৈতিক পণ্ডিতও এ মত দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার পর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে সরকার। এ পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এমনকি তিনি এ-ও বলেন, সবাই সরকারের বিদায়ের অপেক্ষায় আছে। সরকারের বিরুদ্ধে এরশাদের এ কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করে। যদিও তিনি যথারীতি বহাল থাকেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদে। তার দলের মন্ত্রীরা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এই যখন অবস্থা তখন একটি সূত্র জানাচ্ছে, মূলত ক্ষমতাসীনদের সম্মতি নিয়েই সরকারের সমালোচনায় মুখর রয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ সমালোচনার আগে তিনি কথাও বলেছেন সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সব ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগ করেন। তিনি যে গাড়িতে চড়েন সে গাড়িতে থাকে জাতীয় পতাকা। তার গাড়ির তেল আসে সরকারি কোষাগার থেকে। এ অবস্থায় তিনি যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন ক্ষমতাসীনদের সবুজ সংকেত ছাড়া এসব বক্তব্য দেয়া সম্ভব নয়।

Friday, 16 October 2015

একজন রাষ্ট্রপতির আকুতি ও নষ্ট রাজনীতি

একজন রাষ্ট্রপতির আকুতি ও নষ্ট রাজনীতি
একজন রাষ্ট্রপতির আকুতি ও নষ্ট রাজনীতি

অবশেষে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গ্রেফতার হলেন। তার লজ্জাবনত মুখ, চোখ দেশবাসী দেখল। কিন্তু একজন সংসদ সদস্য সংসদে নিজের সৌরভ না ছড়িয়ে যখন রাস্তার পাশে থাকা সৌরভ নামের শিশুটিকে লাইসেন্সধারী অস্ত্র দিয়ে গুলি করেন তখন জনগণের হূদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। দিনে দিনে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, ব্যবসায়ীদের হাতে রাজনীতি চলে গেছে। এখান থেকে রাজনীতিকে বের করে আনতে হবে।

আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে আসা গণমানুষের রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কার্যত দেশের মানুষের কান্না ও আকুতিকে তুলে ধরেছেন। এক অদ্ভুত নষ্ট সময়ের দিকে আমরা ক্রমাগত যাচ্ছি এবং এই নষ্ট সময়ের দিকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। একে একে দলের ভেতর থেকে গণতন্ত্র চর্চার বাতি নিভতে বসেছে। একে একে দলগুলোর অভ্যন্তরে মূল্যবোধের শুধু অবক্ষয়ই ঘটেনি, মানবকল্যাণের মহান আদর্শের জন্য যে রাজনীতি সেটিকেও লাইনচ্যুত করা হয়েছে। কি ডান, কি বাম, কি মধ্যপন্থি দল কারও মধ্যে হরিলুট, কারও মধ্যে হাপিত্যেশ। আদর্শবানরা হয় ঘরে, না হয় দর্শক গ্যালারিতে। এমন রাজনীতি অতীতে কখনো আসেনি আমাদের দেশে। লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি থেকে দিনে দিনে সরে গেছেন রাজনীতিবিদরা। সেনা শাসন জমানায় শত শত তরুণের আত্মাহুতি, আর গণমানুষের নিরন্তর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটলেও মানুষের কাছে দেয়া অঙ্গীকার কোনো দল, নেতা বা শাসক রাখেননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজের কথা বলে যখন যার যার সুবিধামতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বুকে টেনেছেন কেউ কেউ। মনোনয়ন বাণিজ্যের আড়ালে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছেন দলীয় প্রতীক। মধ্যস্বত্বভোগী দালাল ও সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের ভোগ বিলাসের জীবন-যাপন, আমলাতন্ত্রকে কাছে টেনে সমাজকে বৈষম্যের পাহাড়ে তুলে দিয়েছেন। খুলে দিয়েছেন দুর্নীতির সদর দরজা, দলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি। গণতন্ত্রের  জমানা শুধু ব্যক্তির শাসনকেই নিরঙ্কুশ করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে নব্য একনায়কতন্ত্রের আদলে অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা উপহার দিয়েছে জাতিকে। অকার্যকর সংসদই নয়, রাষ্ট্রের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আজ ঘুণে ধরা ভঙ্গুর। রাজনীতি শুধু ব্যবসায়ীদের হাতেই তুলে দেয়া হয়নি, রাজনীতিবিদরাও ভোগ বিলাসের জীবন-যাপনের পথে হাঁটতে গিয়ে ভুলে গেছেন আমাদের মহাকাব্যের সেইসব নায়ক যারা আমাদের ইতিহাসের নায়কের আসনে বসে রাজনীতিকে আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণের পথে মহিমান্বিত ও আলোকিত করেছিলেন। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়িটি এখনো সাদামাটা, সাদা-কালো যুগের রাজনীতির গৌরবময় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখনো বেতের টুপি পরে গরিবের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিবেদিত মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নিরাভরণ জীবন মানবকল্যাণের রাজনীতির প্রতীক হয়ে আছে। এখনো গণতন্ত্রের মানসপুত্র বললেই চোখে ভাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নাম, কৃষকের বন্ধু বললেই উঠে আসে শেরে বাংলা ফজলুল হকের ছবি। এইসব মহাকাব্যের নায়কদের ছায়ায় এই জনপদে অনেক রাজনীতিবিদ উঠে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের ব্যর্থতা এটাই যে, নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখেননি বলে তাদের ছায়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেননি। না নিজেরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে লালন করতে পারলেন, না জনগণের আকাঙ্ক্ষার নেতৃত্বকে উঠিয়ে আনতে পারলেন। দেশ জুড়ে এখন রাজনীতিবিদদের আকাল চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রতিটি সামরিক শাসকের জমানায় হলেও ২৫ বছরেও গণতন্ত্রের জমানায় হয়নি। রহস্যজনক কারণে হয়নি বলেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা নিজেরা নেতৃত্বের সংঘাত দলবাজিতে যেমন নিমজ্জিত হয়েছেন, তেমনি গৌরবময় ছাত্ররাজনীতিকে অসুস্থ ধারায় নিতে নিতে ইনটেনসিভ কেয়ারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

প্রশাসন নির্ভর রাজনীতি, পেশাজীবী নির্ভর দলবাজি, রাজনীতিকে রাজনীতিতে তারুণ্যের ভেতর থেকে নেতৃত্ব উঠে আসার পথ রুদ্ধ করেছেন। রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটলেও স্থানীয় সরকারকে সংসদ সদস্য ও আমলাদের খবরদারিতে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সময়ের স্রোতধারায় নদীগুলো শুধু নাব্যতাই হারায়নি, অতীতের ঐতিহ্য হারিয়ে রাজনীতিও এখন হয়ে পড়েছে এক বন্ধ্যা নদীর নাম। কথা ছিল সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন করবেন, কথা ছিল জাতীয় ইস্যুতে মহান সংসদে যুক্তিতর্কের অবতারণা করে বিতর্কের ঢেউ তুলে নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু বারো ভূঁইয়াদের মতো তারা অঞ্চল ভিত্তিক শাসন কায়েম করেছেন। সুবিধাভোগী হাইব্রিড কর্মী, দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা, আত্মীয়-স্বজন মিলে সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছেন। সরকার একদিকে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চালিয়েছেন, তারা অনেকে চালিয়েছেন অবাধ লুণ্ঠন। টেন্ডার, বালুমহাল,পাথরমহাল, হাট-মাঠ-ঘাট সব এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। টাকা কামানোর হরিলুটে ব্যস্ত তারা। নির্লজ্জ বেহায়ার মতো রাতারাতি বিত্তবৈভব গড়ে তুলছেন অনেকে। মানুষ দেখছে। আড়ালে সমালোচনাও করছে। গায়ে মাখছেন না কেউ। সংসদে দাঁড়ালে নেতা বন্দনা, কার্য প্রণালী বিধি লঙ্ঘন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একপেশে সংসদে একদলীয় ব্যবস্থায়ও কোরাম সংকট দেখতে হয় স্পিকারকে। পূর্বসূরি পার্লামেন্টেরিয়ানরা সংসদের লাইব্রেরিতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতেন, এখন সংসদ সদস্যরা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ে ঘুরেন। তদবির তাদের হাতের মুঠোয়। সংসদে কেউ কেউ গানও করেন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সংসদীয় গণতন্ত্রের এমন বিবর্ণ চেহারা দেখে মহাকাব্যের যুগের সেইসব পার্লামেন্টেরিয়ান যারা কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত বা পরলোকে চলে গেছেন তাদের আত্মা ক্রন্দন করছে। আর দেশের মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন আর আদর্শনির্ভর দল দৃশ্যমান নয়। আদর্শ, নীতি এখন দলগুলোর আঙিনা ছেড়ে ব্যক্তির কাছে চলে গেছে।

সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে আকাশ সংস্কৃতির দুয়ারই শুধু খোলেনি, ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই চালায়নি, তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা গ্রামের মানুষের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে। এর সুবাদে মানুষের কাছে কোনো কিছুই আর গোপন থাকছে না। রাজনীতি শুধু ব্যবসায়ীদের হাতেই তুলে দেয়া হয়নি, লুটেরা সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার কারণে জায়গায় জায়গায় আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত কখনো কখনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে। রাজনীতিকে বাণিজ্যিকীকরণের কারণে সম্ভাবনাময় তরুণ কর্মীদেরকে অনেক জায়গায় এমপিরা বিপথগামী করছেন, ত্যাগের রাজনীতির বিপরীতে ভোগ ও লোভের রাজনীতিকে তুলে আনা হয়েছে। প্রতিবাদমুখর মানুষের দিকে উন্নাসিক এমপিদের কেউ কেউ পিস্তলের গুলি ছুঁড়েছেন অতীতে। কেউ কেউ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তুলেছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আইন বিধি-বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গেলে কোথাও কোথাও এমপিদের সঙ্গে বিরোধ বাঁধছে। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে বদলি করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে এমপিদের কর্তৃত্ব নেই। এই অসুস্থ ধারার পথ ধরে গাইবান্ধার উন্নাসিক বেপরোয়া এমপি লিটন বুনো ষাঁড়ের মতো পথের ধারের শিশুটিকে গুলিবিদ্ধ করেছেন। এমন সংসদ সদস্য অতীতে আসেনি আমাদের জীবনে। রাজনীতিকে আদর্শনির্ভর জনগণের আকাঙ্ক্ষার পথে ফিরিয়ে আনতে হলে দলীয় গণতন্ত্র, শৃঙ্খলাবোধ পুনঃপ্র্রতিষ্ঠা জরুরি। একসময় তৃণমূল থেকে না হয় গৌরবময় ছাত্ররাজনীতির গর্ভ থেকে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর জন্ম হতো। এখন ওপর থেকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর জন্ম দেয়া হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়ই নয়, চাকরি শেষে অবসরে যাওয়া সামরিক-বেসামরিক আমলারাও রাজনীতিতে এসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। রাজনীতির গতিপথ হারিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে বড় দলগুলোর মধ্যে শুধু সংঘাতই নয় মানুষের সঙ্গেও তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। একজন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ ধরে মানবকল্যাণের জন্যই রাজনীতি করেছেন। আইনজীবী হিসেবে এলাকায় খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিস্তীর্ণ হাওড় অঞ্চলের সংগ্রামমুখর মানুষের জীবনকে কাছে থেকে দেখেছেন। জোছনা রাতে জল তরঙ্গের অপরূপ সৌন্দর্যই অবলোকন করেননি, জোছনার আলোর নিচে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে ফসল হারিয়ে যাওয়া কৃষকের চোখের কোণে অশ্রুবিন্দু চিকচিক করতেও দেখেছেন। জীবন ও জীবিকার জন্য মানুষের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম ও তার বেদনা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন। একজন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ রাজনীতির গৌরবময় সাদা-কালো যুগের যে সহজ সরল পথ মানুষকে দেখিয়েছিলেন সেই আলোর পথটি এখন অমাবস্যার অন্ধকারে ডুবতে বসেছে। তার রাজনীতির তীর্থস্থান কিশোরগঞ্জের মানুষের সামনে রাজনীতি নিয়ে যে আকুতি জানিয়েছেন তাতে গোটা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয়েছে। গণমানুষের কল্যাণের আদর্শ নির্ভর রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে হলে সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতির দুয়ার শুধু খুলে দিলেই হবে না আদর্শবান রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সামনের সারিতে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। আর এটি করতে হলে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শনির্ভর ছাত্র রাজনীতির দুয়ার খুলতে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচনই নয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটিও করতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির লাগাম টেনে ধরে রাষ্ট্রপরিচালনায় কে সরকারি দলের, কে বিরোধী দলের সেটি নির্ণয় না করে তৃণমূলের মতামতের আলোকে সত্, নির্লোভ, গণমুখী কর্মীদেরই সংসদে তুলে নিয়ে আসতে হবে। পার্টিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য দলীয় কোর্ট মার্শালে বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে নয় সেটি প্রতিষ্ঠা জরুরি।রাজনীতি পীর হাবিবুর রহমান, লেখক :সাংবাদিক, কলামিস্ট

রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে’, তাতে কী?

রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে’, তাতে কী?

রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে’, তাতে কী?
কাজে যতই লবডংকা হোক, ভালো ভালো কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মানুষের কোনো জুড়ি নেই। এখানে খারাপ মানুষরাও ভালো কথা বলার ক্ষেত্রে ওস্তাদ। একজন দাগী অপরাধীকে টিভি-টকশোতে নিয়ে আসুন। দেখবেন তিনিও মনীষীদের মতো কথা বলছেন। তার কথা শুনেও আপনার মনে হবে, ঠিক, তাইতো। ইস্, লোকটা মনে হয় ষড়যন্ত্রের শিকার। এত ভালো ভালো কথা যে বলেন, তিনি কিছুতেই এমন দাগী অপরাধী হতে পারেন না! আহ্, লোকটার সঙ্গে একটা সেলফি তুলে যদি ফেসবুকে কিংবা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করতে পারতাম!

তবে কিছু মানুষ আছে, যারা আসলেই ভালো করে এবং ভালো ভালো কথা বলতে পারেন। তাদের ব্যাপারে কারও কিছু বলার নেই। বরং তাদের কথা শোনা বা শুনতে পারাটাও জীবনে একটা পরম পাওয়া। আমাদের পরম পূজনীয় মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর অবশ্য বিভিন্ন জাতীয় দিবসে, উত্সবে-অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশ্যে ‘বাণী’ এবং কিছু ভালো ভালো কথা বলা ছাড়া অন্য কোনো ব্রতও নেই। যাহোক, আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে, যা আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। গত সোমবার বিকেলে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, সততা বজায় না রাখলে একজন রাজনীতিবিদ কিছুই করতে সক্ষম হবেন না। কেউ যদি অর্থ-বিত্ত করতে চান, তাহলে তাদের জন্য অনেক উপায় আছে। তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার রাজনীতি মানুষের কল্যাণে। অবৈধভাবে সরকারি কাজ থেকে একটি লাল পয়সাও পকেটে নিইনি।’

মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো নিঃসন্দেহে খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা, ভাবনার কথা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মহোদয় কি ঠিক কথা বলেছেন?

মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে, যা আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। রাজনীতি যদি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যায়, তাহলে ক্ষতি কী? ব্যবসায়ীরা কি মানুষ না? তাদের কী সাধ-আহলাদ বলে কিছু নেই? মহামান্য রাষ্ট্রপতি কী তবে চান যে, তাঁর মতো রাজনীতিকরাই কেবল যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দেশ পরিচালনা করুক? রাজনীতি করুক? 

ব্যবসায়ীদের পকেটে যদি রাজনীতি চলে যায়, তবে সেটা কলঙ্কজনক অধ্যায় হবে কেন? আর ব্যবসায়ীদের পকেটে তো কেবল বাংলাদেশের রাজনীতিই যায়নি, বিশ্বরাজনীতিই চলে গেছে। বিশ্ব যদি গোল্লায় যায়, তাহলে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে কোন মন্ত্রে? নগর পুড়লে দেবালয় বাঁচানোর চেষ্টা কি কখনও সফল হয়?

বর্তমান যুগটাই হচ্ছে ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের যুগ। সবখানে ব্যবসা, সবকিছুতে ব্যবসা। আমরা বাইরে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও চরিত্রের নড়াচড়া দেখি বটে, কিন্তু আড়ালে সেখানেও আছে ব্যবসা, আছে নানা রঙের ব্যবসায়ী। এই দুনিয়ায় এখন কে যে ব্যবসায়ী আর কে নয়, সেটা একটা কঠিন ধাঁধা। বিল গেটস-জকোবার্গ হলেন তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ী, তালেবান-আইএসসহ জঙ্গিরা হলো ধর্মব্যবসায়ী, আইসিসি-ফিফা হলো ক্রীড়া ব্যবসায়ী, হলিউড-বলিউড হলো সংস্কৃতি ও ফ্যাশন ব্যবসায়ী, আইএমএফ, এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থাগুলো হচ্ছে উন্নয়ন ব্যবসায়ী, জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রেডক্রসসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা মানবাধিকার ব্যবসায়ী। সমাজতন্ত্রী-গণতন্ত্রী, মানবতাতন্ত্রী সবারই কম-বেশি একটাই ধান্ধা—সেটা হচ্ছে ব্যবসা। গোটা দুনিয়ায় এখন একটাই ‘ইজম’ তা হচ্ছে ‘সুবিধাবাদিজম’। ‘আমি-তুমি-সে-তারা’ সবাই পণ্য। রাজনীতিও পণ্য। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করা যাবে কীভাবে? আর সেটা করার দরকারটাই বা কী?

ব্যবসা খুবই ভালো বৃত্তি। ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কথাই হচ্ছে লাভ। যে কোনো উপায়ে লাভ করাই একজন ব্যবসায়ীর প্রধান লক্ষ্য। শুধু লাভ নয়, মহালাভ খোঁজেন তারা। লাভ করতে গিয়ে কোনো ঝুটঝামেলা, ইনকাম ট্যাক্স, সেল্স ট্যাক্স, কাস্টমস, পুলিশ, মামলা, অসন্তোষ, হরতাল, ধর্মঘটে জড়িয়ে না পড়েন—ব্যবসায়ীদের মনে এই আকাঙ্ক্ষাও প্রবলভাবে কাজ করে। তবে ব্যবসা করা সহজ কাজ নয়। অনেক ঝানু ব্যক্তি ব্যবসা করতে গিয়ে ফতুর হয়েছেন, আবার অনেক হাঁদারামও ব্যবসায় সফল হয়ে কোটিপতি বনেছেন। উভয় প্রকার উদাহরণই আমাদের সমাজে ভূরিভূরি আছে। প্রখর বুদ্ধি, কঠোর পরিশ্রম, অমিত আত্মবিশ্বাস, সেইসঙ্গে ভাগ্যদেবীর সুনজর—এসব না হলে ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না।

হ্যাঁ, সেইসঙ্গে সততাও প্রয়োজন। আমরা ছোটবেলায় দেখতাম দোকানে কাঁচের ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে—সততাই আমাদের একমাত্র মূলধন। আজকাল অবশ্য এরকম কোনো ঘোষণাপত্র কোনো দোকানে বা শোরুমের দেয়ালে দেখা যায় না। পুরো সমাজ থেকেই যেখানে সততা বিদায় হয়েছে, সেখানে দোকানে তা আর টিকে থাকবে কীভাবে? ব্যবসায় সততা বলতে যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই তেমন নয়; সততা এখনও আছে। তবে তা ভিন্ন সংজ্ঞায়, আলাদা মানে নিয়ে।

আমাদের দেশে গত প্রায় দুই যুগ ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী বেশ ভালোই লাভ করছে। লবণ, সয়াবিন তেল, তৈরি  পোশাক, ঝুট কাপড়, বালু, জমি, ফ্ল্যাট, ইয়াবা থেকে শুরু করে শেয়ার ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত নানা কারসাজিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রচেষ্টা কোনো কাজে দেয়নি। তবে চোরের ওপর বাটপাড়ি শুরু করেছে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীচক্র। ব্যবসায়ীদের লাভের গুড়ে এই চক্র ভাগ বসাচ্ছে। বনিবনা না হলে দু’একজন মাঝারি গোছের ব্যবসায়ী খুনও হচ্ছেন। সরকার কার পক্ষ নেবে? এই দু’পক্ষই যে তাদের একান্ত আপনজন!

আগে মোটা অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করত। তাদের স্বার্থের পক্ষে নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হত। বর্তমানে ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদরাই ব্যবসায়ী। এখন আর তোয়াজ-তোষামোদের বালাই নেই। এখন তারা সর্বেসর্বা। তারা নিজেদের স্বার্থে আইন প্রণয়ন যেমন করছেন, নিজেদের প্রয়োজনে সেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুলও দেখাচ্ছেন। দেখারও কেউ নেই আর বলারও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীসহ দু’চারজন ছাড়া বাকি সবাই প্রায় নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কাজেই তারাই এখন নীতি-নির্ধারক। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আমাদের মতো আমপাবলিকের হারিকেন হাতে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, সততা বজায় না রাখলে একজন রাজনীতিবিদ কিছুই করতে সক্ষম হবেন না। কেউ যদি অর্থ-বিত্ত করতে চান, তাহলে তাদের জন্য অনেক উপায় আছে। তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত নয়।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এটা কী বললেন! সততা ছাড়াই যেখানে রাজনীতি করা সম্ভব হচ্ছে, অর্থ-বিত্ত-বৈভব অর্জন করা যাচ্ছে, সেখানে মানুষজন রাজনীতির পথ ছাড়তে যাবে কোন দুঃখে? কেউ যদি বিনাশ্রমে দ্রুত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে চান তাদের তো বরং ঝাঁক বেঁধে রাজনীতিতে নামা উচিত। অনেকে তা নামছেনও। রাজনীতি হয়ে উঠেছে টাকা কামানোর সবচেয়ে লাগসই ও কার্যকর মেশিন! সেই ‘অতি লাভজনক’ রাজনীতি ছেড়ে মানুষ টাকা-কামানোর জন্য অন্য পথ ধরতে যাবে? মানুষ কি পাগল না মাথা খারাপ?

মহামান্য রাষ্ট্রপতি নাকি ‘অবৈধভাবে সরকারি কাজ থেকে একটি লাল পয়সাও পকেটে’ নেননি। এটা কী গর্ব করার মতো কোনো বিষয় হলো? বেশিরভাগ রাজনীতিক যেখানে সরকারি তহবিল ও জনগণের জন্য বরাদ্দ টাকা নয়-ছয় করে শুধু পকেট নয়, বিদেশি ব্যাংক ভর্তি করেন, সেখানে কেউ যদি অবৈধভাবে সরকারি কাজ থেকে একটি লাল পয়সাও পকেটে না নেন, সেটা মোটেও সম্মান ও গৌরবের নয়। এটা স্রেফ ব্যর্থতা। মূঢ়তা। ব্যবসায়ীদের কি পেট নেই? বাচ্চাকাচ্চা নেই? তাদের কি খেতে-পরতে, আরাম-আয়েশে থাকতে হয় না? তাদের শখ-ইচ্ছে নেই? অসুখ-বিসুখ নেই? চিত্তবিনোদনের দরকার হয় না? এসব কী হাওয়া থেকে আসে? তাছাড়া রাজনীতি করতে হলে ছোটাছুটি করতে হয়, কর্মী পুষতে হয়। আর এজন্য কাড়ি কাড়ি টাকা লাগে। এই টাকা কোত্থেকে আসবে? রাজনীতিকরা যদি ব্যবসায়ী না হন, তাহলে তাদের ভরণ-পোষণ, কর্মী ও ক্যাডার তোষণের খরচা কে দেবে? ভূতে জোগাবে!

যমুনা নদীর তীরে বসে জল পিপাসায় কেউ যদি মারা যান, তাহলে তাকে আমরা কৃতিত্ব দেব কোন যুক্তিতে? মহামান্য রাষ্ট্রপতি কী তবে আমাদের বোকা হতে উত্সাহিত করছেন? 
চিররঞ্জন সরকার, লেখক:কলাম লেখক


Thursday, 15 October 2015

৮ মাসে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ২৭ জন খুন আহত ১৫৪৯

৮ মাসে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ২৭ জন খুন আহত ১৫৪৯
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে কোন্দল আরও বাড়বে
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তৃণমূলে কোন্দল হানাহানি আরও বাড়বে বলে আশাংকা করছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে যখন তারা মাঠ ছাড়া তখন স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলে ক্ষমতাসীন দলেই বেশি খুনোখুনির আশংকা রয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্য ক্ষমতাসীনরা যেমন তৎপর থাকবে অন্যদিকে কে দলীয় মনোনয়ন পাবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তৈরি হবে ভয়াবহ কোন্দল। এ কোন্দলের জের ধরে বাড়বে হানাহানি। সূত্র জানায়, গত সাড়ে ৬ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনোখুনির ঘটনা ভয়ঙ্কর হারে বেড়ে গিয়েছে। দলীয় সংঘাতের ফলে প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক নেতাকর্মীর লাশ পড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে খুন হয়েছে ২৭ জন নেতাকর্মী। এ সময় নিজেদের মধ্যে ১৬১টি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১৫৪৯ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। আসকের পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়, গত ছয় বছরে (২০০৯-১৪) সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১৭২ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলে সরকারি দলের মধ্যেই সংঘর্ষ সংঘাত বাড়বে। এর ফলে মনোনয়ন-বাণিজ্য, টাকার খেলা, পেশীশক্তির ব্যবহার বাড়বে। এতে গণতন্ত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সূত্র জানায়, স্থানীয় ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার দ্বন্ধ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, পদে যেতে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেয়াসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ, যুবলীগ-যুবলীগ, ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ওপর যেন নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলেছে দলটি। এরই মধ্যে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সারা দেশেই সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরো দাবানল ছড়াবে। 
গত ১৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর বাড্ডায় গুলী করে হত্যা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাসহ তিনজনকে। পশুর হাটের ইজারা, নতুন নেতৃত্ব ও গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামা ও ফিরোজ আহমেদ ওরফে মানিক।
একই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মর্দনা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রবিউল ইসলাম (৩০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। একই দিন কুষ্টিয়ায় শোক দিবসের র‌্যালি শেষে জেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী সবুজ হোসেন নিহত হন।
একই দিনে মজমপুর রেলগেট প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সবুজ (২৫) এক দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়। সিলেটের মদন মোহন কলেজেও নিজ সংগঠনের ক্যাডারের ছুরিকাঘাতে আবদুল আলীম (১৯) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হয়েছেন। 
মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিভিন্ন কাজ নিয়ে ক্ষমতানসীন দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে গত ১০ আগস্ট রাতে রাজধানীর কাজিপাড়ায় নিজেদের কোন্দলে খুন হন কাফরুল থানা সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল। ৭ আগস্ট নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়ন যুবলীগের দফতর সম্পাদক মিলন সরকারকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দেওটি ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন স্থানীয় সারেংবাড়ির নাদেরুজ্জামানের ছেলে। একই দিন বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাসেল ব্যাপারী (২৩) নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ১ আগস্ট সন্দ্বীপ মগধরা ইউনিয়নের নামারবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
৫ জুলাই কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়াকুব আলী (৫৮) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ইয়াকুব আলী উপজেলার কেয়ারী গ্রাম আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ১১ জুলাই রাজবাড়ী সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস ছাত্তারকে গুলী করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২১ জুলাই রানীনগরে আমজাদ হোসেন (৩৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৪ জুলাই পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরে দানেজ শেখ নমের এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহত ব্যাক্তি আমিনপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৩১ জুলাই দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল হান্নান ছোটকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বত্তরা। 
৫ জুন ঝালকাঠি সদর উপজেলায় তৌহিদুল ইসলাম সিকদার নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি বিনয়কাঠি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৭ জুন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বালাইশপুর গ্রামে মফিজ উল্লাহ (৫৫) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মফিজ উল্লাহ বশিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯ জুন ফেনীতে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের গুলীতে মোহাম্মদ মানিক (৩০) নামে যুবলীগের এক নেতা নিহত হন ২৮ জুন লালমনিরহাট সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য বুলেটকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। 
আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানান, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অন্তর্দলীয় গণতন্ত্রের যুগসন্ধিক্ষণ চলছে। রাজনৈতিক দল, সরকার, গণমাধ্যমসহ সর্বত্রই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। এর অভাবে এবং অন্তর্দলীয় গণতন্ত্রে ঘাটতি থাকায় এ ধরনের সহিংসতা চলছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে নতুন কিছু হবে না। এটা অনানুষ্ঠানিক ছিল, এখন আনুষ্ঠানিক হয়েছে। আমাদের এখানে প্রশ্ন হলো, এভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা। আগেও হয়নি। এখানে দলীয়ভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে মারামারি হবে। দলের ভেতরে কোন্দল হবে। মনোনয়ন-বাণিজ্য হবে। এগুলো ঠেকিয়ে যদি নির্বাচন করতে পারে তবে ভাল হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা সুফল বয়ে আনবে না। এভাবে নির্বাচন করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। একই প্রতীকে বারবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অতীতেও এটা আমরা দেখেছি জাতীয় নির্বাচনে। এর ফলে মনোনয়ন-বাণিজ্য, টাকার খেলা, পেশীশক্তির ব্যবহার বাড়বে। এতে গণতন্ত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন করার যুক্তি হিসেবে দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হলেও তা হবে না। আমাদের দেশে এমনিতেই দলীয় কোনো শৃঙ্খলা নেই। আমরা দেখেছি, দলের কেউ অপকর্ম করলে তার শাস্তি হয় না। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এটা হবে রাজনৈতিক নির্বাচন। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন কারণে আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না, সহিংসতা হয়। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এসব সংস্কৃতিতে পরিবর্তন হবে না। রাজনীতিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না। এজন্য রাজনীতিতে পরিশুদ্ধি দরকার। নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ থাকবে কিনা। আইনের শাসন থাকবে কিনা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে কিনা। এবার প্রথমবার হচ্ছে, তাই এসব দেখার বিষয়।

Saturday, 10 October 2015

PM now blames Khaleda


Killing of Foreigners

PM now blames Khaleda  

Unb, Dhaka
Prime Minister Sheikh Hasina yesterday alleged that BNP chief Khaleda Zia is conspiring from abroad to destabilise the country through killing foreigners in Bangladesh.
She was speaking to the newly elected office-bearers of Chittagong, Barisal, Rangpur, Gopalganj and Gazipur bar associations at the Gono Bhaban.
The PM said Khaleda “killed people” in the name of agitation when she was at home. “Staying abroad, she is now killing foreign nationals to create panic among them  for tainting the country's image.”
“What's their new technique? The BNP-Jamaat clique engaged lobbyists in various countries, including in the UK and the USA, to spread a propaganda campaign against the country,” added Hasina, also the Awami League chief.
The BNP-Jamaat put in their all-out efforts to “tarnish the country's image and for that they killed people and did whatever necessary to carry out their plot,” complained the AL chief.
She urged people to stay alert against Khaleda's “conspiracy” and sought cooperation from all to foil the “evil design”.
Referring to the BNP leader's “self-confinement” at her Gulshan office for long 92 days earlier this year, Hasina said Khaleda had announced not to return home until the AL government was dislodged.

In trying to do that, the BNP leader had begun “killing people, throwing petrol bombs, burning bus passengers to death as she did in 2013 in the name of movement to foil the national election”, said the PM.
On the judiciary, the premier said her government has taken various programmes for it, including setting up of Bangladesh Judicial Training Institute, Speedy Trial Tribunal, Bangladesh Legal Aid and Services Trust and formation of Judicial Services Commission.
Digital data has been made for all laws. Besides, the government has a plan to digitise all communication systems of the High Court with other courts, she noted.
Hasina said e-libraries will be established in court libraries in phases and necessary assistance will be given for supplying more books there.
People, she said, want justice as it is their rights and the AL government has been working to ensure that.
The PM sought cooperation from people in establishing Bangladesh as the most peaceful and prosperous country in South Asia as dreamt by Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.
Earlier, the presidents and general secretaries of the bar associations greeted the PM by presenting her with bouquets. Najibullah Hiru, general secretary of Dhaka District Bar Association, conducted the programme.
Law Minister Anisul Haque, Liberation War Affairs Minister AKM Mozammel Haque, AL Advisory Council member Yusuf Hossain Humayun, AL Law Secretary Abdul Matin Khasru, former chief whip Abul Hasnat Abdullah and Law Secretary Abu Saleh Sk Md Zahirul Haque were present.

Hey, we've just launched a new custom color Blogger template. You'll like it - https://t.co/quGl87I2PZ
Join Our Newsletter