Flickr

Wednesday, 28 May 2014

আমাদের গৌরবের র‌্যাব

আমাদের গৌরবের র‌্যাব
র‌্যাবের একটি ইউনিট টাকার বিনিময়ে খুনের কাজ করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশ  অনেক আগে থেকেই নানা অপকর্ম ও আইন ভঙ্গ করার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে আসছে। অবশেষে এই ঘটনাটি মানুষকে স্তম্ভিত করেছে, অবাক করেছে। খবরে প্রকাশ র‌্যাবের একটি ইউনিট অথবা ইউনিটের কতিপয় সদস্য ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জে সাতজন বিশিষ্ট লোককে হত্যা করেছে। ঘটনাটি এখনো তদন্ত পর্যায়ে থাকলেও র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের তিন জন সদস্যকে বরখাস্ত করেছে । র‌্যাবের বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশে নিরপেক্ষ তদন্তেরও ব্যবস্থা হয়েছে। সবাই আশা করছে ঘটনার গডফাদারসহ দায়ী সকলে দিনের আলোতে আসবে এবং উপযুক্ত শাস্তিও তাদের হবে।
র‌্যাবের এই ঘটনা ক্ষোভের চেয়ে বেদনার সৃষ্টি করেছে বেশি। আশার এক আলোকবর্তিকা হিসাবে চারদলীয় জোটের শাসনামলে র‌্যাবের জন্ম হয়েছিল। বিশেষ এলিট ফোর্স হিসাবে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। পুলিশবাহিনী ও সেনাবাহিনী থেকে চৌকস, সৎ, সাহসী, কর্মঠ লোকবল নিয়ে র‌্যাব গঠন করা হয়। বড় বড় সন্ত্রাসী ও অপরাধ কর্মের বিরুদ্ধে তাদের ব্যবহার করা ছিল উদ্দেশ্য। পুলিশের গতানুগতিকতা থেকে ভিন্নতর র‌্যাব বা র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন সমাজে অপরাধের বিস্তার থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য বিরাট ভূমিকা পালন করবে। একটা সময় পর্যন্ত র‌্যাব দেশের মানুষের আশা পূরণ করেছে। র‌্যাব মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের ক্ষিপ্রতা, কর্মতৎপরতা, সাফল্য মানুষের গল্পের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই র‌্যাবের আজ এই পরিণতি কেন? কেন তারা গর্বের বদলে মানুষের কাছে অভিযুক্ত হচ্ছে গর্হিত কাজের জন্য? কেন তারা আশার বদলে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে? কেন আজ র‌্যাব ভেঙ্গে দেয়ার প্রশ্ন উঠছে? এই দুরবস্থার জন্য কি র‌্যাব দায়ী কিংবা র‌্যাব একাই কি দায়ী।
সবাই একমত হবেন যে দেশে আজ আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ থেকে নিম্নতম পর্যায় পর্যন্ত ‘চেইন অব কমান্ড’ নেই বললেই চলে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মীরা যে যেমন পারে তেমন কাজ করছে। স্বীকার না করে উপায় নেই প্রশাসনের রাজনীতিকরণ বিশেষ করে র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা, প্রতিপক্ষ দমনে কাজে লাগানো, একজনের বদলে এক হাজার জনকে আসামী করা এবং গ্রেফতার বাণিজ্যকে অব্যাহতভাবে চলতে দেয়া ইত্যাদি অপরাজনীতি র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পেশাদারিত্বকে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ফ্রন্টে লুটপাট চলছে। সেই লুটপাটের দৃষ্টান্ত প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীতেও অনেকেই অনুসরণ করছে। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‌্যাবের কতিপয় সদস্য কর্তৃক তথাকথিত ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এটাই যে শেষ ঘটনা তা আমরা মনে করতে পারছি না। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলে যদি লুটপাট বন্ধ না হয়, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার ব্যবহার বন্ধ না করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিকদের শায়েস্তা করার জন্যে যদি গ্রেফতার ও গ্রেফতার বাণিজ্য উৎসাহিত করা হয়, তাহলে আইনের শাসন ফিরে আসবে না এবং আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীরও নীতি নিয়ম ও আইন মানার দায় থাকবে না। আইন মান্য করার দায় উপর থেকে আসে, নীচ থেকে নয়।

Saturday, 24 May 2014

স্বাধীনতার চেতনা ও ইতিহাসের সংরক্ষণে বাংলা ব্লগ ও বাঙালি ব্লগারদের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা ও ইতিহাসের সংরক্ষণে বাংলা ব্লগ ও বাঙালি ব্লগারদের যে ভূমিকা তার চূড়ান্ত প্রকাশ আমরা দেখেছিলাম শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে। এবং বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী শক্তির হাতিয়ার হিসেবে ধর্মের ব্যবহারটাও আমরা দেখতে পেরেছিলাম সেই একই সময়ে। দেখেছিলাম ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে নব রূপে জন্ম নিয়েছে রাজাকার বান্ধব হেফাজতী আন্দোলন। এরই প্রেক্ষিতে পহেলা এপ্রিল ২০১৩ তারিখে চারজন নাস্তিক ব্লগারকে ডিবি পুলিশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ৫৭ (১) ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো। যে ধারাটির সন্নিবেশন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন, মহান সংবিধানের ধর্ম-নিরপেক্ষতার মূলনীতি এবং বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবমাননা। [১] এরপরে জল গড়িয়েছে অনেকটাই, অসাংবিধানিক এই ধারাটি তার বিষবৃক্ষের ডালপালা ছড়িয়েছে আরো বহুদূর।

এই কালো আইনের সর্বশেষ শিকার চট্টগ্রাম নিবাসী দুই কিশোর ব্লগার কাজী রায়হান রাহী ও উল্লাস ডি ভাবন। গত ৩০ মার্চ’ ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে নিজেদের আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি তাদের উপর আক্রমণ চালায় জামাত-শিবির মনষ্ক ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীরা। [২] পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা সংগ্রহ করে- অপর এক ধর্মান্ধ সন্ত্রাসি এবং একাধিক হত্যার হুমকি ও জঙ্গিতৎপরতায় উষ্কানিদাতা ফারাবি শফিউর রহমান’এর সাথে, প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসে দ্বিমত পোষণকারী রাহি ও উল্লাসের কিছু কথপোকথন। [৩] “অপরাজেয় সঙ্ঘ” নামক এই জামাতমনষ্ক সন্ত্রাসি দলটির সাথে ফারাবি’র যোগাযোগের প্রমাণও স্পষ্ট। এরই প্রেক্ষিতে, আক্রান্ত ব্লগারদের উপরে হামলা করবার পূর্বে তারা তৈরি করে ধর্মীয় উষ্কানিমূলক প্রচারপত্র এবং সময় বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র দুই কিশোরের ওপর। গুরূতরভাবে আক্রান্ত কিশোরদ্বয়কে স্থানীয় পুলিশ সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করে তথতাকথিত ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেবার অজুহাতে।

উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত ব্লগার দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর এবং এই বারের অনুষ্ঠিতব্য এইচ,এস,সি, পরীক্ষার্থী। তা হওয়া স্বত্বেও তাদের সাথে পুলিসের আচরণ মোটেও কিশোর অপরাধীর মত ছিল না। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া সত্তেও এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার কারণবশতও, ৫৭ ধারার অবাস্তব মারপ্যাঁচে পড়ে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়ে যায়। সেই সাথে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই কিশোরদ্বয়ের পক্ষে স্থানীয় আইনজীবিরাও দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। উল্লাস, ইসলাম ভিন্ন অন্য ধর্মাবলম্বী বলে অনেক আইনজীবিই তার পক্ষে মামলা লড়তে অস্বীকৃতি জানান বলেও জানা গেছে। তাছাড়া এদের পরিবারও স্পষ্ট নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই পুরো ব্যাপারটাই দেশের মধ্যে একটি নষ্ট, জঙ্গিবান্ধব ও ধর্মান্ধ পরিবেশ তৈরি হবার প্রমাণ বহন করে।

তবে এরথেকেও ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে- এই ঘটনার পরেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহি ও উল্লাসের উপর চলা জীবন সংশয় সৃষ্টিকারী এই হামলার হোতা “অপরাজেয় সঙ্ঘ” নামক ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী সঙ্গঠনটির একাধিক সদস্যের দাম্ভিক স্বীকারোক্তি থাকা সত্তেও তাদের বিরূদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি তারা প্রকাশ্যে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির হুমকি প্রদান করা সত্তেও তারা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। [৩] অথচ এগুলোর সবই বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে স্পষ্ট দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের বিরূদ্ধে কোনোপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা তো হয়ইনি, বরং এদের নির্বিঘ্ন চলাফেরার সুযোগ দিয়ে প্রশাসন এই ব্লগারদের পরিবারকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

উল্লেখ্য যে, তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি প্রথম থেকেই মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের কারণে বিতর্কিত। সেই সাথে স্বাধীন, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে বার বার ব্লাসফেমী আইনের বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার যথেষ্টই আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি, দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইনের সাথেও এই ধারাটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেউ চুরি করুক, ডাকাতি করুক, খুন করুক, ধর্ষন করুক- তার জামিন আছে। কিন্তু, ৫৭ ধারার অপরাধের কোন জামিনের সুযোগ রাখা হয়নি। সেই সাথে এই ধারায় কৃত অপরাধ-এর ন্যুণতম শাস্তি ৭ বছরের কারা দন্ড, যেখানে ধর্ষনের মত জঘন্যতম একটি অপরাধের ন্যুনতম শাস্তিও এরচেয়ে কম। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ধর্মীয় মৌলবাদি ও রাজাকারদের সংগঠন জামাতে ইসলামীর কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের আগে ও পরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উস্কানি, পরিকল্পনা কোন রকম বাধা ছাড়াই করেছে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কোনপ্রকার আইনের আওতায় নেয়া না হলেও সামান্য ফেইসবুক স্ট্যাটাস যেগুলোতে কারো কোন শারীরিক ক্ষতি বা এমন কিছুর দুরতম সম্ভাবনাও নেই সেখানে ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে ব্লগ ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারিরা গ্রেফতার ও হেনস্থার স্বীকার হচ্ছে।

বিসিবিএ বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের মহান সংবিধান কোনো ব্যক্তিবিশেষকে যেমনটি নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাস লালল করায় বাঁধা দেয় না, তেমনি কারো ধর্মের প্রতি অবিশ্বাসেরও পালন, প্রচার এবং প্রকাশকে রূদ্ধ করে না। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে বিসিবিএ ঘৃণাভরে বলতে বাধ্য হচ্ছে, স্পষ্টতঃই সরকারের মধ্যে হেফাজতী, ধর্মান্ধ একটি অংশ প্রবল ভাবে প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছে। এবং এদেরই প্রত্যক্ষ উষ্কানীতে জাতির সংবিধানের রক্ষক হয়েও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মতো সংবিধানের প্রতি চরম অবমাননামূলক একটি আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। এবং ক্রমাগত অপব্যবহারের মাধ্যমে এই আইনটিকেই ব্লাসফেমি আইনের আদলে গড়ে তুলে বাংলাদেশের পাকিস্তান যাত্রা নিশ্চিত করছে তারা।

এই অবস্থায় বাংলা কমিউনিটি ব্লগ এলায়েন্স অন্ত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানাতে চায় যে, ইতিমধ্যেই আমাদের পক্ষ থেকে আক্রান্ত দুই ব্লগারকে সর্বোচ্চ আইনী সহায়তা দেবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই সাথে যে ঘৃণ্য ৫৭ ধারার অজুহাতে বারবার মুক্তমতকে দলিত করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধেও সর্বাত্মক প্রতিরোধ এবং জনসংযোগ সৃষ্টি করতে আমরা সচেষ্ট। এই প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত দাবীসমূহ উপস্থাপন করা হচ্ছে-

ক) আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের সুস্থ প্রবাহ ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
খ) আক্রমণকারী সন্ত্রাসিদের উষ্কানিদাতা, সঙ্গঠকসহ জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের যথাযথ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
গ) সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
ঘ) আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল/সংশোধন করে মুক্তমতের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে
ঙ) ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরি ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও আটককৃত ব্লগারদের মুক্তি ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে বিসিবিএ সচেষ্ট থাকবে এবং আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা রদকল্পে ক্রমাগত কর্মসূচি প্রদান করে যাবে বলে আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
Hey, we've just launched a new custom color Blogger template. You'll like it - https://t.co/quGl87I2PZ
Join Our Newsletter